কোটা প্রথা তুলে দিবেন প্রধানমন্ত্রী : ছাত্রলীগ

0

সরকারি চাকরির সব কোটা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন প্রবল রূপ পাওয়ার মধ্যেই বুধবার দুপুরে ফেইসবুকে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেইনের এই বার্তা আসে।

যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমরা দেখা করেছি, তিনি আমাদের বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকবে না ।”

বিজ্ঞাপন

ফেইসবুকে আসা পোস্ট তারাই দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সোহাগ বলেন, সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আসতে পারে।

বর্তমানে দেশে পাঁচ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য। প্রতিবন্ধী এক শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ও জেলা কোটা ১০ শতাংশ করে। সব মিলিয়ে কোটার জন্য বরাদ্দ ৫৬ শতাংশ। ফলে এর কোনো শ্রেণিতে যারা পড়েন না, তাদের প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে বাকি ৪৪ শতাংশের জন্য।

এই পদ্ধতি সংস্কারের পাঁচ দফা দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।

তাদের দাবিগুলো হল- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

সরকারের তরফ থেকে কোটা বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা এখনও আসেনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা (কর্মকর্তারা) কাজ করছেন, তারা কাজ করুক তারপর আপনারা জানতে পারবেন।”

ছাত্রলীগ নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, “আমরা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগের স্ট্যাটাস দেখেছি। অন্য কারও মুখ থেকে নয়, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ও সরাসরি সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াব না।”

Comments

comments

বিজ্ঞাপন